মূল কনটেন্টে যান

সূত্র, নিয়ম ও ফ্ল্যাশ কার্ড

দ্রুত রিভিশনের জন্য সূত্র, সাধারণ ভুল আর ফ্ল্যাশ কার্ড, এক জায়গায়।

৫টি সূত্র ও নিয়ম

বাংলা ব্যাকরণ ও বানান

শুদ্ধ বানান টেকনিক: মুমূর্ষু (হ্রস্ব-দীর্ঘ-হ্রস্ব নিয়ম)

সূত্র

ম + ু (হ্রস্ব-উ) -> ম + ূ + র্ষ (দীর্ঘ-ঊ + রেফ) -> ষ + ু (হ্রস্ব-উ)। ছন্দ: 'মাঝে শুধু দীর্ঘ-ঊ, দুই পাশে হ্রস্ব-উ' (ু - ূ - ু)।

নিয়ম ও সহজ উপায়

'মুমূর্ষু' বানানে তিনটি 'উ' কার রয়েছে। মনে রাখার ম্যাজিক রুল: মাঝে কেবল দীর্ঘ-ঊ (ূ) এবং দুই পাশে হ্রস্ব-উ (ু)। অর্থাৎ: ু - ূ - ু। একইভাবে 'মুহূর্ত' বানানে প্রথমটি হ্রস্ব এবং দ্বিতীয়টি দীর্ঘ (ম + ু + হ + ূ + র্ত)।

বাংলা ব্যাকরণ ও বানান

শুদ্ধ বানান টেকনিক: পিপীলিকা (হ্রস্ব-ই, দীর্ঘ-ঈ, হ্রস্ব-ই)

সূত্র

প + ি (হ্রস্ব-ই) -> প + ী (দীর্ঘ-ঈ) -> ল + ি (হ্রস্ব-ই) -> ক + আ। ছন্দ: 'মাঝে দীর্ঘ-ঈ, দুই পাশে হ্রস্ব-ই' (ি - ী - ি)।

নিয়ম ও সহজ উপায়

'পিপীলিকা' শব্দে তিনটি ই-কার রয়েছে। মনে রাখার শর্টকাট সূত্র: হ্রস্ব-ই + দীর্ঘ-ঈ + হ্রস্ব-ই (ি - ী - ি)। ঠিক যেমন মুমূর্ষু-তে (ু - ূ - ু), পিপীলিকা-তেও মাঝেরটিতে দীর্ঘ-কার এবং দুই পাশে হ্রস্ব-কার।

বাংলা ব্যাকরণ ও বানান

শুদ্ধ বানান টেকনিক: মুহুর্মুহু (সবগুলো হ্রস্ব-উ ু)

সূত্র

ম + ু -> হ + ু + র্ -> ম + ু -> হ + ু। সূত্র: 'মুহুর্মুহু শব্দে কোনো দীর্ঘ-ঊ নেই, সবগুলোই হ্রস্ব-উ (ু)'।

নিয়ম ও সহজ উপায়

'মুহুর্মুহু' শব্দের অর্থ বারবার বা ক্ষণে ক্ষণে। এই শব্দটির চারটি স্বরচিহ্নই হ্রস্ব-উ (ু)। কোনো দীর্ঘ-ঊ কার নেই। দ্বিতীয় 'হ'-এর মাথায় রেফ বসবে: মু + হুর্ + মু + হু।

বাংলা ব্যাকরণ ও বানান

সন্ধি নির্ণয়ের ম্যাজিক রুল: চ্ছ থাকলে 'ছ', অনুস্বার (ং) থাকলে 'ম্'

সূত্র

১. শব্দের মাঝে 'চ্ছ' থাকলে সন্ধিবিচ্ছেদে 'ছ' হয় (পরিচ্ছদ = পরি + ছদ, অনুচ্ছেদ = অনু + ছেদ)।
২. শব্দের মাঝে 'ং' (অনুস্বার) থাকলে সন্ধিবিচ্ছেদে 'ম্' হয় (সংবাদ = সম্ + বাদ, সঞ্চয় = সম্ + চয়, অহংকার = অহম্ + কার)।
৩. শব্দের মাঝে 'ব-ফলা' থাকলে তা 'উ/ঊ' কারে রূপ নেয় (স্বাগত = সু + আগত)।

নিয়ম ও সহজ উপায়

বিসিএস ও সরকারি পরীক্ষায় সন্ধি বিচ্ছেদ করার ৩টি তাৎক্ষণিক শর্টকাট: ১. 'চ্ছ' থাকলে প্রথম অংশের পর কেবল 'ছ' দিয়ে বাকিটা লিখবেন: পরিচ্ছদ = পরি + ছদ; বিচ্ছিন্ন = বি + ছিন্ন; কথাচ্ছলে = কথা + ছলে। ২. 'ং' (অনুস্বার) থাকলে তা ভেঙে 'ম্' বা 'সম্' হয়ে যায়: সংসার = সম্ + সার; সংবিধান = সম্ + বিধান; সংগীত = সম্ + গীত। ৩. 'ব-ফলা' থাকলে তা 'উ/ঊ' কারে রূপ নেয়: স্বাগত = সু + আগত; অন্বেষণ = অনু + এষণ।

বাংলা ব্যাকরণ ও বানান

সমাস চেনার সহজ টেকনিক: দ্বন্দ্ব, দ্বিগু, বহুব্রীহি ও কর্মধারয় নির্ণয়

সূত্র

১. উভয় পদ প্রধান -> দ্বন্দ্ব (মা-বাবা)
২. সংখ্যা + সমাহার -> দ্বিগু (ত্রিকাল, চৌরাস্তা)
৩. পূর্ব/পরপদ না বুঝিয়ে অন্য ব্যক্তি/বস্তু -> বহুব্রীহি (পীতাম্বর, দশানন)
৪. পূর্বপদের বিভক্তি লোপ -> তৎপুরুষ (রাজপুত্র, বিলাতফেরত)
৫. বিশেষণ + বিশেষ্য / তুলনা -> কর্মধারয় (নীলপদ্ম, কাজলকালো)
৬. পূর্বপদ অব্যয় -> অব্যয়ীভাব (উপকূল, যথারীতি)

নিয়ম ও সহজ উপায়

পদ প্রাধান্য দিয়ে সমাস চিনুন: - দ্বন্দ্ব: দুই পদই সমান গুরুত্বপূর্ণ (হাত ও পা = হাত-পা)। - বহুব্রীহি: কোনো পদই বোঝাবে না, তৃতীয় কিছু বোঝাবে (বীণাপাণি = বীণা পাণিতে যার = দেবী সরস্বতী; দশানন = রাবণ)। - দ্বিগু: শুরুতে সংখ্যা থাকবে এবং পরপদে সমাহার বোঝাবে (তেমাথা = তিন মাথার সমাহার)। কিন্তু সংখ্যাবাচক বহুব্রীহিতে সমাহার বোঝায় না, তৃতীয় ব্যক্তি/বস্তু বোঝায় (যেমন: দশানন, সেতার)। - কর্মধারয়: পরপদ প্রধান এবং তুলনা বা 'যে/সে' থাকে (মহান যে নবী = মহানবী)।