BIOS বনাম UEFI, POST, বুট প্রক্রিয়া, MBR বনাম GPT ও সমস্যা সমাধান
সংক্ষেপে মনে রাখুন
দ্রুত রিভিশনের জন্য মূল কথা
- BIOS/UEFI ও MBR/GPT-এর মূল পার্থক্য সংখ্যাসহ বলতে পারা
- POST ও বুট প্রক্রিয়ার ধাপ ক্রমানুসারে সাজাতে পারা
- উপসর্গ দেখে হার্ডওয়্যার সমস্যার সম্ভাব্য কারণ ও সমাধান বের করতে পারা
আগে নিজেকে পরীক্ষা (POST), তারপর কোথা থেকে চালু হবে খোঁজা, তারপর bootloader, শেষে OS। MBR পুরনো ও ছোট (4টি, 2 …
FAT32 বা NTFS partition style নয়, file system। আর CMOS ব্যাটারি BIOS প্রোগ্রাম রাখে না, শুধু সেটিংস ও ঘড়ি চালু রাখে।
BIOS ও UEFI
BIOS (Basic Input/Output System) মাদারবোর্ডের Flash ROM-এ থাকা ফার্মওয়্যার। কম্পিউটার চালু হলে প্রথমে এটিই চলে, হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করে এবং অপারেটিং সিস্টেম লোড করার ব্যবস্থা করে।
UEFI (Unified Extensible Firmware Interface) হলো পুরনো BIOS-এর আধুনিক বিকল্প। দোকানে বা বইয়ে অনেক সময় UEFI-কেও "BIOS" বলা হয়।
| বিষয় | Legacy BIOS | UEFI |
|---|---|---|
| ইন্টারফেস | কিবোর্ড দিয়ে চলা টেক্সট মেনু | মাউস চলে এমন গ্রাফিক্যাল মেনু হতে পারে |
| বুট ডিস্কের পার্টিশন | MBR | GPT (CSM চালু থাকলে MBR-ও চলে) |
| বুট ডিস্কের সাইজ | 2 TB পর্যন্ত | 2 TB-এর অনেক বেশি |
| Secure Boot | নেই | আছে (অস্বাক্ষরিত bootloader আটকায়) |
| বুট গতি | তুলনামূলক ধীর | দ্রুত |
- BIOS/UEFI সেটআপে ঢোকার কী সাধারণত Del বা F2; Boot menu-র কী F12, F11, F8 বা Esc। কোম্পানি ভেদে আলাদা, চালু হওয়ার সময় স্ক্রিনে লেখা থাকে।
- Windows 11 চালাতে UEFI, Secure Boot সক্ষম এবং TPM 2.0 লাগে।
POST (Power-On Self-Test)
চালু হওয়ার পরপর BIOS/UEFI CPU, RAM, ভিডিও কার্ড ও কিবোর্ডের মতো মৌলিক যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করে। একে POST বলে।
- সফল হলে অনেক কম্পিউটারে একটি ছোট beep হয়।
- সমস্যা হলে স্ক্রিনে বার্তা আসে, বা ডিসপ্লে না থাকলে beep code দিয়ে জানায়।
- Beep code BIOS নির্মাতা (AMI, Award, Phoenix) ও মাদারবোর্ড ভেদে আলাদা। অনেক বোর্ডে বারবার লম্বা beep মানে RAM সমস্যা, আর ১টি লম্বা ও কয়েকটি ছোট beep মানে ডিসপ্লে/ভিডিও সমস্যা। নিশ্চিত হতে মাদারবোর্ডের ম্যানুয়াল দেখতে হয়।
- নতুন অনেক বোর্ডে beep-এর বদলে Debug LED বা Q-code দেখায় (CPU, DRAM, VGA, BOOT)।
বুট প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে
- Power বাটন চাপলে SMPS সব ভোল্টেজ স্থির হলে Power Good সিগন্যাল পাঠায়।
- CPU ফার্মওয়্যার (BIOS/UEFI) চালায়।
- POST হয়।
- Boot order অনুযায়ী বুট ডিভাইস খোঁজে (SSD, USB, নেটওয়ার্ক)।
- Legacy BIOS হলে ডিস্কের প্রথম সেক্টর MBR-এর boot code চালায়; UEFI হলে EFI System Partition (ESP) থেকে bootloader চালায় (Windows-এ Windows Boot Manager)।
- Bootloader অপারেটিং সিস্টেমের Kernel লোড করে, তারপর ড্রাইভার ও সার্ভিস চালু হয়।
Cold boot: বন্ধ অবস্থা থেকে চালু করা। Warm boot: চালু অবস্থায় Restart।
MBR বনাম GPT
| বিষয় | MBR (Master Boot Record) | GPT (GUID Partition Table) |
|---|---|---|
| অবস্থান | ডিস্কের প্রথম সেক্টর (512 byte) | শুরুতে header ও partition table, শেষে একটি backup |
| Primary partition | সর্বোচ্চ ৪টি (বা ৩টি primary + ১টি extended, যার ভেতরে logical) | Windows-এ সর্বোচ্চ 128টি |
| সর্বোচ্চ ডিস্ক | 2 TB (512 byte sector-এ) | কার্যত সীমাহীন |
| ত্রুটি ধরা | নেই | CRC দিয়ে যাচাই |
| ফার্মওয়্যার | Legacy BIOS | UEFI |
MBR-এর 512 byte ভাগ: 446 byte boot code + 64 byte partition table (৪টি এন্ট্রি × 16 byte) + 2 byte signature (55AA)।
উদাহরণ: একটি 4 TB হার্ডডিস্ক MBR-এ রাখলে প্রায় 2 TB ব্যবহার করা যাবে, বাকিটা অব্যবহৃত থাকবে। পুরো 4 TB পেতে GPT করতে হবে।
CMOS Reset
ভুল BIOS সেটিং বা ভুলে যাওয়া BIOS পাসওয়ার্ডের কারণে কম্পিউটার চালু না হলে:
- মাদারবোর্ডের CLR_CMOS jumper ম্যানুয়াল অনুযায়ী কিছুক্ষণ বদলে দেওয়া, অথবা
- বিদ্যুৎ সংযোগ খুলে CMOS ব্যাটারি কিছুক্ষণ খুলে রাখা।
সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
| উপসর্গ | সম্ভাব্য কারণ | কী করবেন |
|---|---|---|
| কিছুই চালু হয় না, ফ্যান ঘোরে না | পাওয়ার ক্যাবল, SMPS-এর সুইচ, নষ্ট SMPS, Power button-এর তার | ক্যাবল ও সুইচ চেক, ফ্রন্ট প্যানেলের তার চেক, SMPS টেস্ট |
| ফ্যান ঘোরে কিন্তু ডিসপ্লে নেই | RAM ঢিলা বা ময়লা, মনিটরের ক্যাবল, গ্রাফিক্স কার্ড | RAM খুলে পিন পরিষ্কার করে আবার বসানো, ক্যাবল ও মনিটরের ইনপুট চেক |
| প্রতিবার চালু করলে তারিখ-সময় পিছিয়ে যায় | CMOS ব্যাটারি দুর্বল | CR2032 ব্যাটারি বদলানো |
| কিছুক্ষণ চলে নিজে বন্ধ বা রিস্টার্ট | Overheating (ধুলা, ফ্যান বন্ধ, শুকনো thermal paste), দুর্বল SMPS | ধুলা পরিষ্কার, ফ্যান চেক, নতুন thermal paste |
| "Boot device not found" / "Operating system not found" | Boot order ভুল, ডিস্কের ক্যাবল খোলা, bootloader নষ্ট | Boot order ঠিক করা, ক্যাবল চেক, Windows recovery দিয়ে Startup Repair |
| হঠাৎ নীল স্ক্রিন (BSOD) | ড্রাইভার, RAM বা ডিস্কের ত্রুটি | Safe Mode-এ চালিয়ে নতুন ড্রাইভার সরানো, Windows Memory Diagnostic |
| কম্পিউটার খুব ধীর | Startup-এ অনেক প্রোগ্রাম, ম্যালওয়্যার, ডিস্ক প্রায় পূর্ণ, পুরনো HDD | Startup প্রোগ্রাম বন্ধ, অ্যান্টিভাইরাস স্ক্যান, জায়গা খালি, SSD লাগানো |
Windows 10/11-এ Shift চেপে Restart করলে Advanced startup আসে, সেখান থেকে Safe Mode ও Startup Repair পাওয়া যায়।
কাজের নিয়ম
- কেস খোলার আগে বিদ্যুৎ সংযোগ খুলে নিন।
- স্থির বিদ্যুৎ (ESD) থেকে যন্ত্রাংশ বাঁচাতে anti-static wrist strap ব্যবহার করুন।
- সমস্যা সমাধানের ক্রম: সমস্যা চিহ্নিত করা → সম্ভাব্য কারণ ভাবা → পরীক্ষা করা → সমাধানের পরিকল্পনা ও প্রয়োগ → পুরো সিস্টেম চলছে কি না যাচাই → লিখে রাখা।
পরীক্ষায় যা আসে
- POST-এর পূর্ণরূপ Power-On Self-Test।
- MBR-এ সর্বোচ্চ ৪টি primary partition, সর্বোচ্চ 2 TB।
- GPT-র সাথে চলে UEFI; Secure Boot UEFI-এর বৈশিষ্ট্য।
- তারিখ-সময় বারবার রিসেট হলে CMOS ব্যাটারি বদলাতে হয়।
- নিজে নিজে বন্ধ হলে প্রথমে overheating সন্দেহ করুন।
পরীক্ষার ফাঁদ
- "সব BIOS-এ একই beep code" ভুল; beep code নির্মাতা ভেদে আলাদা।
- GPT-তে 128টি পার্টিশন Windows-এর সাধারণ সীমা, GPT ফরম্যাটের তাত্ত্বিক সীমা নয়।
- Warm boot মানে Restart; বন্ধ থেকে চালু করা Cold boot।
পরের ধাপ
এই টপিকে ৫টি প্রশ্ন অনুশীলন করুন
পড়া মনে আছে কি না, ছোট একটি সেটে দেখে নিন। প্রতিটি উত্তরের সাথে ব্যাখ্যা থাকবে, আর ভুল প্রশ্নগুলো রিভিশনের তালিকায় যাবে