মূল কনটেন্টে যান
Basic Electricity & ElectronicsDC Circuits & Ohm's Law

DC সার্কিট: ওহমের সূত্র, সিরিজ-প্যারালাল, কির্শফের সূত্র ও রেজিস্টর কালার কোড

পড়তে প্রায় ১৩ মিনিটসংস্করণ ১সর্বশেষ আপডেট: ২ নভেম্বর, ২০২৬১৬টি অনুশীলন প্রশ্ন

সংক্ষেপে মনে রাখুন

দ্রুত রিভিশনের জন্য মূল কথা

মূল কথা
  • ওহমের সূত্র ও পাওয়ারের তিনটি রূপ দিয়ে অজানা মান বের করতে পারা
  • সিরিজ, প্যারালাল ও মিশ্র সার্কিটের মোট রোধ, কারেন্ট ও ভোল্টেজ ড্রপ হিসাব করতে পারা
  • KCL, KVL ও রেজিস্টর কালার কোড প্রয়োগ করতে পারা
সূত্র ও নিয়ম
V = I × R, I = V / R, R = V / I. Power: P = V × I = I²R = V² / R

একটি ত্রিভুজ আঁকুন, উপরে V, নিচে পাশাপাশি I ও R। যে রাশিটি বের করতে চান আঙুল দিয়ে ঢেকে দিন: V ঢাকলে I × R (পা…

যেখানে ভুল হয়

একক না মিলিয়ে হিসাব করা সবচেয়ে বড় ভুল: mA-কে A-তে (÷ 1000) এবং kΩ-কে Ω-তে (× 1000) রূপান্তর না করলে উত্তর হাজার গুণ ভুল আসে। আর P = I²R-এ বর্গ করতে ভুলে গেলে আসলে ভোল্টেজ বের হয়।

মৌলিক রাশি

রাশিপ্রতীকএককসম্পর্ক
চার্জQCoulomb (C)
কারেন্টIAmpere (A)I = Q / t
ভোল্টেজ (বিভব পার্থক্য)VVolt (V)
রোধROhm (Ω)
পরিবাহিতা (Conductance)GSiemens (S)G = 1 / R
পাওয়ারPWatt (W)P = V × I
শক্তিWJoule (J), kWhW = P × t

ওহমের সূত্র

তাপমাত্রা ও অন্যান্য ভৌত অবস্থা স্থির থাকলে পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট তার দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক।

V = I × R, তাই I = V / R এবং R = V / I।

পাওয়ারের তিন রূপ: P = VI = I²R = V²/R

উদাহরণ ১: 12 V ব্যাটারির সাথে 4 Ω রোধ।

  • I = 12 / 4 = 3 A
  • P = 12 × 3 = 36 W (যাচাই: I²R = 9 × 4 = 36 W)

সিরিজ সংযোগ

  • মোট রোধ: R_T = R1 + R2 + R3 + ...
  • সব রোধে কারেন্ট একই।
  • মোট ভোল্টেজ রোধের অনুপাতে ভাগ হয়: V1 = I × R1।
  • একটি অংশ খুলে গেলে (open) পুরো সার্কিট বন্ধ।

উদাহরণ ২: 2 Ω, 4 Ω ও 6 Ω সিরিজে, সাপ্লাই 24 V।

  • R_T = 2 + 4 + 6 = 12 Ω
  • I = 24 / 12 = 2 A
  • ভোল্টেজ ড্রপ: 2 × 2 = 4 V, 2 × 4 = 8 V, 2 × 6 = 12 V। যোগফল 24 V, সাপ্লাইয়ের সমান।

Voltage divider: দুটি রোধ সিরিজে থাকলে V1 = V × R1 / (R1 + R2)। যেমন 10 kΩ ও 10 kΩ দিয়ে 12 V ভাগ করলে মাঝখানে 6 V।

প্যারালাল সংযোগ

  • মোট রোধ: 1/R_T = 1/R1 + 1/R2 + ...
  • দুটি রোধ হলে: R_T = (R1 × R2) / (R1 + R2)
  • n টি সমান রোধ R হলে: R_T = R / n
  • সব শাখায় ভোল্টেজ একই; কারেন্ট ভাগ হয়, কম রোধের শাখায় কারেন্ট বেশি।
  • মোট রোধ সবসময় সবচেয়ে ছোট রোধটির চেয়েও কম।
  • বাসাবাড়ির বাতি-পাখা প্যারালালে থাকে, তাই একটি নষ্ট হলে বাকিগুলো চলে।

উদাহরণ ৩: 6 Ω ও 3 Ω প্যারালালে, সাপ্লাই 12 V।

  • R_T = (6 × 3) / (6 + 3) = 18 / 9 = 2 Ω
  • মোট I = 12 / 2 = 6 A
  • 6 Ω শাখায় 12/6 = 2 A, 3 Ω শাখায় 12/3 = 4 A। যোগফল 6 A।

উদাহরণ ৪ (মিশ্র): 4 Ω রোধ সিরিজে, তার পরে 6 Ω ∥ 3 Ω, সাপ্লাই 12 V।

  • প্যারালাল অংশ = 2 Ω, মোট R = 4 + 2 = 6 Ω
  • I = 12 / 6 = 2 A
  • 4 Ω-এ ড্রপ 8 V, প্যারালাল অংশে বাকি 4 V
  • 6 Ω শাখায় 4/6 ≈ 0.67 A, 3 Ω শাখায় 4/3 ≈ 1.33 A

কির্শফের সূত্র

  • KCL (Kirchhoff's Current Law): কোনো সংযোগ বিন্দুতে (node) ঢোকা মোট কারেন্ট = বের হওয়া মোট কারেন্ট। এটি চার্জের সংরক্ষণ নীতি থেকে আসে।
  • KVL (Kirchhoff's Voltage Law): যেকোনো বদ্ধ লুপে সব ভোল্টেজের বীজগাণিতিক যোগফল শূন্য। এটি শক্তির সংরক্ষণ নীতি থেকে আসে।

উদাহরণ ৫: একটি node-এ 5 A ঢুকছে, একটি শাখা দিয়ে 2 A বের হচ্ছে। অন্য শাখায় কারেন্ট = 5 − 2 = 3 A।

উদাহরণ ২-এ KVL: 24 − 4 − 8 − 12 = 0।

তারের রোধ

R = ρL / A (ρ = রোধকত্ব বা resistivity, L = দৈর্ঘ্য, A = প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল)।

  • দৈর্ঘ্য দ্বিগুণ হলে রোধ দ্বিগুণ।
  • ব্যাস দ্বিগুণ হলে ক্ষেত্রফল ৪ গুণ, তাই রোধ এক-চতুর্থাংশ।
  • ধাতব পরিবাহীর রোধ তাপমাত্রা বাড়লে বাড়ে।

বিদ্যুৎ বিলের ইউনিট

১ ইউনিট = 1 kWh = 1000 W যন্ত্র ১ ঘণ্টা চললে যে শক্তি খরচ হয়।

উদাহরণ ৬: 40 W টিউবলাইট দিনে 5 ঘণ্টা, 30 দিন: 40 × 5 × 30 = 6000 Wh = 6 ইউনিট।

ব্যাটারি সংযোগ

  • সিরিজে: ভোল্টেজ যোগ হয় (দুটি 12 V → 24 V), Ah একই থাকে।
  • প্যারালালে (সমান ভোল্টেজের): ভোল্টেজ একই, Ah যোগ হয়।

রেজিস্টর কালার কোড

রংঅঙ্কগুণক
কালো (Black)0× 1
বাদামি (Brown)1× 10
লাল (Red)2× 100
কমলা (Orange)3× 1k
হলুদ (Yellow)4× 10k
সবুজ (Green)5× 100k
নীল (Blue)6× 1M
বেগুনি (Violet)7× 10M
ধূসর (Grey)8
সাদা (White)9

Tolerance: সোনালি (Gold) ±5%, রুপালি (Silver) ±10%, বাদামি ±1%, লাল ±2%। Gold গুণক হিসেবে থাকলে × 0.1, Silver × 0.01।

মনে রাখার লাইন: "BB ROY of Great Britain has a Very Good Wife" (Black, Brown, Red, Orange, Yellow, Green, Blue, Violet, Grey, White)।

উদাহরণ ৭ (৪ ব্যান্ড):

  • বাদামি-কালো-লাল-সোনালি: 1, 0, × 100 → 1000 Ω = 1 kΩ, ±5%
  • হলুদ-বেগুনি-কমলা-সোনালি: 4, 7, × 1000 → 47 kΩ, ±5%
  • লাল-লাল-বাদামি-সোনালি: 2, 2, × 10 → 220 Ω, ±5%

পরীক্ষায় যা আসে

  • V = IR; P = VI = I²R = V²/R।
  • সিরিজে কারেন্ট একই, প্যারালালে ভোল্টেজ একই।
  • n টি সমান রোধ প্যারালালে R/n, সিরিজে nR।
  • KCL চার্জের সংরক্ষণ, KVL শক্তির সংরক্ষণ।
  • ১ ইউনিট = 1 kWh।
  • কালার কোডে লাল = 2, কমলা = 3, সোনালি tolerance ±5%।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • প্যারালালের মোট রোধ কখনো সবচেয়ে ছোট রোধের চেয়ে বেশি হয় না। হিসাবে বেশি এলে নিশ্চয়ই ভুল।
  • কালার কোডের তৃতীয় ব্যান্ড অঙ্ক নয়, শূন্যের সংখ্যা (গুণক)।
  • ওহমের সূত্র তাপমাত্রা স্থির থাকলে প্রযোজ্য; ডায়োড বা বাল্বের ফিলামেন্টের মতো অ-ওহমীয় উপাদানে V ও I সমানুপাতিক থাকে না।
  • KVL-এ চিহ্ন (+/−) ঠিকমতো না দিলে ফল ভুল আসে; লুপ ঘোরার একটি দিক ঠিক করে সব ড্রপ সেই নিয়মে লিখুন।

পরের ধাপ

এই টপিকে ৫টি প্রশ্ন অনুশীলন করুন

পড়া মনে আছে কি না, ছোট একটি সেটে দেখে নিন। প্রতিটি উত্তরের সাথে ব্যাখ্যা থাকবে, আর ভুল প্রশ্নগুলো রিভিশনের তালিকায় যাবে