মূল কনটেন্টে যান
Basic Electricity & ElectronicsMeasuring Instruments

মাপার যন্ত্র: মাল্টিমিটার, ক্ল্যাম্প মিটার, মেগার ও অসিলোস্কোপ

পড়তে প্রায় ১২ মিনিটসংস্করণ ১সর্বশেষ আপডেট: ২ নভেম্বর, ২০২৬১৩টি অনুশীলন প্রশ্ন

সংক্ষেপে মনে রাখুন

দ্রুত রিভিশনের জন্য মূল কথা

মূল কথা
  • অ্যামিটার, ভোল্টমিটার ও ওহমমিটার সঠিকভাবে সংযোগ করে নিরাপদে মাপতে পারা
  • কাজ অনুযায়ী সঠিক যন্ত্র (ক্ল্যাম্প মিটার, মেগার, ওয়াটমিটার, অসিলোস্কোপ) বাছতে পারা
  • অসিলোস্কোপের Volt/div ও Time/div থেকে Vpp, Vrms ও ফ্রিকোয়েন্সি হিসাব করতে পারা
সূত্র ও নিয়ম
Ammeter: series, very low R, range up with parallel shunt. Voltmeter: parallel, very high R, range up with series multiplier. Megger: insulation resistance. Oscilloscope: waveform, f = 1 / (divisions × time/div)

"A-S, V-P": Ammeter Series, Voltmeter Parallel। মিটার যেন সার্কিটকে বিরক্ত না করে, তাই ammeter-এর রোধ খুব কম, …

যেখানে ভুল হয়

Ammeter parallel-এ দিলে প্রায় শর্ট সার্কিট হয়ে মিটার পুড়ে যায়। আর অজানা ভোল্টেজ মাপতে সবসময় সর্বোচ্চ range থেকে শুরু করুন; রোধ মাপুন বিদ্যুৎ বন্ধ রেখে।

মূল নিয়ম: কোন মিটার কীভাবে বসে

যন্ত্রকী মাপেসংযোগনিজস্ব রোধ
Ammeterকারেন্টলোডের সাথে সিরিজেখুব কম
Voltmeterভোল্টেজলোডের সাথে প্যারালালেখুব বেশি
Ohmmeterরোধসার্কিট বন্ধ (বিদ্যুৎহীন) রেখে, উপাদানের দুই প্রান্তেনিজস্ব ব্যাটারি থাকে
  • অ্যামিটারের রেঞ্জ বাড়াতে প্যারালালে কম মানের রোধ (Shunt) দেওয়া হয়।
  • ভোল্টমিটারের রেঞ্জ বাড়াতে সিরিজে বেশি মানের রোধ (Multiplier) দেওয়া হয়।
  • Galvanometer খুব ক্ষুদ্র কারেন্টের উপস্থিতি ও দিক শনাক্ত করে।

মাল্টিমিটার

এক যন্ত্রে ভোল্টেজ (AC/DC), কারেন্ট ও রোধ মাপা যায় বলে একে AVO meter (Ampere-Volt-Ohm)-ও বলে।

ডিজিটাল বনাম অ্যানালগ

বিষয়Digital (DMM)Analog
পাঠসংখ্যায় দেখায়কাঁটা (pointer) ও স্কেল
নির্ভুলতা ও পড়াবেশি, সহজপড়ার সময় parallax ভুল হতে পারে
রোধের স্কেলস্বাভাবিকউল্টো (ডানে 0, বামে অসীম) ও অসমান দূরত্বের
শূন্য ঠিক করাস্বয়ংক্রিয়প্রতিবার রোধ মাপার আগে প্রোব ছুঁইয়ে Zero adjust
দ্রুত ওঠানামাবোঝা কঠিনকাঁটার নড়াচড়ায় বোঝা সহজ

3½ digit DMM সর্বোচ্চ 1999 পর্যন্ত দেখাতে পারে।

ব্যবহারের ধাপ ও নিরাপত্তা

  1. কালো প্রোব সবসময় COM জ্যাকে।
  2. লাল প্রোব ভোল্টেজ ও রোধের জন্য VΩ জ্যাকে; কারেন্টের জন্য mA বা 10A জ্যাকে।
  3. মান জানা না থাকলে সবচেয়ে বড় রেঞ্জ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে কমান (auto-range মিটারে এটি নিজেই হয়)।
  4. AC ও DC সঠিকভাবে বাছুন: দেয়ালের সকেটে AC V (যেমন 750 V AC রেঞ্জ), ব্যাটারিতে DC V।
  5. রেঞ্জের চেয়ে বড় মান হলে ডিসপ্লেতে OL (Over Limit) দেখায়।

উদাহরণ: বাসার সকেট মাপলে প্রায় 220 V AC দেখাবে; এটি RMS মান। একটি 9 V ব্যাটারি DC V-এ মাপলে উল্টো প্রোব দিলে ডিজিটাল মিটার -9 V দেখায়, অর্থাৎ পোলারিটি উল্টো।

কন্টিনিউটি ও ডায়োড টেস্ট

  • Continuity: তার বা ফিউজ ভালো থাকলে (খুব কম রোধ) মিটার beep দেয়। ছেঁড়া তারে beep হয় না, OL দেখায়।
  • Diode test: Forward দিকে (লাল প্রোব Anode-এ) ভালো সিলিকন ডায়োডে প্রায় 0.5–0.7 V দেখায়; উল্টো দিকে OL। দুই দিকেই প্রায় 0 দেখালে ডায়োড শর্ট, দুই দিকেই OL দেখালে ওপেন।

অন্যান্য যন্ত্র

যন্ত্রকাজ
Clamp meter (Tong tester)সার্কিট না কেটে তারের চারপাশে চোয়াল আটকে কারেন্ট মাপে। সাধারণ ধরন AC মাপে; DC মাপতে Hall-effect ধরন লাগে
Megger (Insulation tester)উচ্চ DC ভোল্টেজ (যেমন 500 V বা 1000 V) দিয়ে তারের ইনসুলেশন রোধ মাপে, মেগাওহম এককে
Wattmeterসত্যিকারের পাওয়ার (W)
Energy meterব্যবহৃত শক্তি, kWh (বিদ্যুতের মিটার)
Frequency meterফ্রিকোয়েন্সি (Hz)
LCR meterInductance, Capacitance ও Resistance
Earth testerআর্থিং-এর রোধ
Line testerফেজ তার শনাক্ত করে (জ্বলে ওঠে)

ক্ল্যাম্প মিটারে শুধু একটি তার (ফেজ বা নিউট্রাল) ঢোকাতে হয়। ফেজ ও নিউট্রাল একসাথে ঢোকালে দুই দিকের চৌম্বক ক্ষেত্র কাটাকাটি হয়ে প্রায় 0 দেখায়।

Wheatstone bridge

চারটি রোধ দিয়ে অজানা রোধ নির্ভুলভাবে মাপার সার্কিট। Galvanometer-এ কারেন্ট শূন্য হলে (balanced): P / Q = R / S।

উদাহরণ: P = 100 Ω, Q = 200 Ω, R = 50 Ω হলে S = R × Q / P = 50 × 200 / 100 = 100 Ω।

অসিলোস্কোপ (CRO / DSO)

সময়ের সাথে ভোল্টেজ কীভাবে বদলায় তা তরঙ্গের ছবি হিসেবে দেখায়। মাল্টিমিটার শুধু একটি সংখ্যা দেয়, অসিলোস্কোপ দেখায় আকৃতি।

  • উল্লম্ব অক্ষ (Y) = ভোল্টেজ, নিয়ন্ত্রণ Volts/div।
  • আনুভূমিক অক্ষ (X) = সময়, নিয়ন্ত্রণ Time/div।
  • Trigger স্থির ছবি ধরে রাখে।
  • ×10 probe সিগন্যালকে ১০ ভাগের ১ ভাগ করে; মিটারে ×10 সেটিং না দিলে পাঠ ১০ গুণ কম দেখাবে।
  • মাপা যায়: Amplitude, Peak-to-peak, পর্যায়কাল, ফ্রিকোয়েন্সি, দুই সিগন্যালের ফেজ পার্থক্য।

উদাহরণ: একটি সাইন তরঙ্গের এক চক্র অনুভূমিকভাবে 4 ঘর জুড়ে, Time/div = 5 ms। চূড়া থেকে খাদ পর্যন্ত উল্লম্বভাবে 6 ঘর, Volts/div = 2 V।

  • T = 4 × 5 ms = 20 ms, তাই f = 1 / 0.02 = 50 Hz
  • Vpp = 6 × 2 = 12 V, Vm = 6 V
  • Vrms = 6 × 0.707 ≈ 4.24 V

Function / Signal generator পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির সাইন, স্কয়ার বা ত্রিভুজ তরঙ্গ তৈরি করে; অসিলোস্কোপ তা দেখায়।

পরীক্ষায় যা আসে

  • অ্যামিটার সিরিজে, ভোল্টমিটার প্যারালালে।
  • আদর্শ অ্যামিটারের রোধ শূন্য, আদর্শ ভোল্টমিটারের রোধ অসীম।
  • ইনসুলেশন রোধ মাপে Megger।
  • সার্কিট না কেটে কারেন্ট মাপে Clamp meter।
  • তরঙ্গের আকৃতি দেখা ও ফ্রিকোয়েন্সি মাপা: Oscilloscope।
  • বিদ্যুৎ বিলের মিটার মাপে kWh।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • লাল প্রোব 10A জ্যাকে রেখে ভোল্টেজ মাপলে মিটার শর্ট সার্কিট হয়ে ফিউজ পুড়তে পারে।
  • চালু সার্কিটে রোধ মাপবেন না; পাঠ ভুল আসে, মিটারও নষ্ট হতে পারে।
  • অ্যানালগ মিটারে রোধের স্কেল উল্টো: কাঁটা পুরো ডানে মানে শূন্য রোধ।
  • ক্ল্যাম্প মিটারে পুরো ক্যাবল (ফেজ ও নিউট্রাল একসাথে) ঢোকালে প্রায় শূন্য দেখায়।

পরের ধাপ

এই টপিকে ৫টি প্রশ্ন অনুশীলন করুন

পড়া মনে আছে কি না, ছোট একটি সেটে দেখে নিন। প্রতিটি উত্তরের সাথে ব্যাখ্যা থাকবে, আর ভুল প্রশ্নগুলো রিভিশনের তালিকায় যাবে