বাংলা ব্যাকরণ: সমাস ও সন্ধি চেনার জাদুকরী টেকনিক
সংক্ষেপে মনে রাখুন
দ্রুত রিভিশনের জন্য মূল কথা
- ব্যাসবাক্য দেখে মুহূর্তেই ৬ প্রকার সমাস শনাক্ত করতে পারা
- ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গ সন্ধির বিশেষ রূপান্তর সূত্র মনে রাখা
- বিপিএসসি ও ব্যাংক পরীক্ষায় আসা সর্বাধিক রিপিটেড ব্যাকরণ প্রশ্ন নির্ভুল করা
'মুমূর্ষু' বানানে তিনটি 'উ' কার রয়েছে। মনে রাখার ম্যাজিক রুল: মাঝে কেবল দীর্ঘ-ঊ (ূ) এবং দুই পাশে হ্রস্ব-উ (ু)…
পরীক্ষার্থীরা প্রায়ই প্রথমটিতে দীর্ঘ-ঊ অথবা শেষটিতে দীর্ঘ-ঊ দিয়ে ফেলেন (যেমন: মূমর্ষু বা মুমর্ষূ)। মনে রাখবেন: মুমূর্ষু শব্দের শুধু মাঝের 'ম'-এ দীর্ঘ-ঊ এবং তার ওপর রেফ হবে।
মূল ধারণা (Core Concepts)
সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ বা একাধিক পদের একপদীকরণ।
সমাসের অর্থ প্রাধান্য ও চেনার টেকনিক
- দ্বন্দ্ব সমাস (উভয় পদের অর্থ প্রধান): ব্যাসবাক্যে 'ও, এবং, আর' থাকে (যেমন: মা ও বাবা = মা-বাবা)।
- দ্বিগু সমাস (পরপদের অর্থ প্রধান): শুরুতে সংখ্যাবাচক শব্দ এবং শেষে সমাহার থাকে (যেমন: তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল)।
- কর্মধারয় সমাস (পরপদের অর্থ প্রধান): বিশেষ্য ও বিশেষণের মিলন (যেমন: নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম)।
- তৎপুরুষ সমাস (পরপদের অর্থ প্রধান): পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় (যেমন: বইকে পড়া = বইপড়া)।
- বহুব্রীহি সমাস (ভিন্ন কোনো অর্থ প্রধান): পূর্বপদ বা পরপদ কারও অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কাউকে বোঝায় (যেমন: দশ আনন যার = দশানন [রাবণ])।
- অব্যয়ীভাব সমাস (পূর্বপদের অর্থ প্রধান): শুরুতে উপসর্গ বা অব্যয় থাকে (যেমন: কূলের সমীপে = উপকূল)।
> ⚡ ৫-সেকেন্ড শর্টকাট (Exam Shortcut): > - সংখ্যা + সমাহার = দ্বিগু সমাস (তেমাথা, চৌরাস্তা) > - সংখ্যা + কোনো বিশেষ ব্যক্তি/বস্তু = বহুব্রীহি সমাস (দশ আনন যার = দশানন; সে তার বিশিষ্ট = সেতার)
> ⚠️ পরীক্ষার ফাঁদ (Exam Trap): > সন্ধির নিয়মে: উৎ + হার = উদ্ধার (ত্+হ = দ্ধ); দিগ্ + অন্ত = দিগন্ত (ক্ স্থানে গ্); কিন্তু মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট (বিসর্গ অক্ষত থাকে)। পরীক্ষায় প্রায়ই 'উদ্ধার' এর জায়গায় 'উদ্ + ধার' ভুল অপশন দেওয়া হয়!
পরের ধাপ
এই টপিকে ৫টি প্রশ্ন অনুশীলন করুন
পড়া মনে আছে কি না, ছোট একটি সেটে দেখে নিন। প্রতিটি উত্তরের সাথে ব্যাখ্যা থাকবে, আর ভুল প্রশ্নগুলো রিভিশনের তালিকায় যাবে